চুলের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল,ভিটামিন ই ক্যাপসুল খাওয়ার নিয়ম,চুলের জন্য ভিটামিন ই ক্যাপসুল

 

চুলের জন্য ভিটামিন ই ভীষণ উপকারী। চুল পড়া কমানো থেকে শুরু করে ঝলমলে স্বাস্থ্যজ্জ্বল চুল পেতে এ ভিটামিন সহায়ক ভূমিকা রাখে।

তাই ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশাপাশি অনেকেই ভিটামিন ই ক্যাপসুল সরাসরি ব্যবহার করেন চুলে। বলা যায় চুলের সব ধরনের সমস্যার সমাধান টানতে সক্ষম এটি। নিয়মিত ভিটামিন ই ব্যবহারে চুল পড়া বন্ধ হয়। কেবল তাই নয়, মজবুতও হয় চুলের গোড়া

এছাড়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা প্রতিরোধ করতেও সক্ষম ভিটামিন ই। সেসঙ্গে ফ্রি-ব়্যাডিকালস ধ্বংস করে এবং চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে।ফলে চুল থাকে ঝলমলে ও সুন্দর। এছাড়া স্ক্যাল্পের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতেও ভিটামিন ই এর জুড়ি মেলা ভার।

ভিটামিন ই সরাসরি চুলে, মাথার ত্বকে ব্যবহার করা যায়। তবে কেউ চাইলে বিভিন্ন হেয়ার প্যাক বানিয়েও ব্যবহার করতে পারেন এ উপকারী ভিটামিন।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল ও অ্যালোভেরা জেল: একটি পাত্রে সাত-আটটা ভিটামিন ই ক্যাপসুল কেটে তার থেকে তেল বের করে নিন। সেই তেলের সঙ্গে দু’ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি চুল ও মাথার ত্বকে লাগান।  আঙুল দিয়ে আলতোভাবে মালিশ করুন। মাস্কটি ৩০-৪০ মিনিটের জন্য রেখে দিন এবং তার পরে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু’বার এটি ব্যবহারে চুলের গোড়া মজবুত হবে, চুল পড়ার সমস্যা কমবে।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল, ডিম এবং বাদাম তেল: একটি ডিম ভেঙে একটি পাত্রে রাখুন। চারটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল থেকে তেল বের করে ডিমের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এক চা চামচ বাদাম তেল নিয়ে মিশ্রণটির সঙ্গে ভালো করে মেশান। মাথার ত্বক থেকে শুরু করে সারা চুলে এই মাস্কটি লাগান। এক ঘণ্টা রেখে দিন। এর পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এক থেকে দু’বার এটি ব্যবহার করতে পারেন।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল, দই এবং মধু: একটি পাত্রে অর্ধেক কাপ দই ও দু’ চামচ মধু নিয়ে নিন। চারটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল থেকে তেল বের করে দইয়ের মিশ্রণের সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে লাগান। আধ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে দু’দিন এটি ব্যবহার করলে খুশকির সমস্যা দূর হবে। চুলের উজ্জ্বলতাও ফিরবে।

জেনে নিন চুলের যত্নে ভিটামিন-ই ব্যবহার করা কোন কোন কারণে জরুরি।

  1. ২০১০ সালে হওয়া একটি গবেষণা বলছে, হেয়ার ফলিকেলের ড্যামেজ রোধ করে ভিটামিন-ই। 
  2. এই ভিটামিনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য মাথার ত্বকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। ফলে চুল পড়া কমে। 
  3. ভিটামিন-ই চুলের গোড়ায় রক্ত ​​প্রবাহ বাড়াতে পারে, যা চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। 
  4. ভিটামিন-ই মাথার ত্বকে পুষ্টি জোগায়, চুলের ভাঙা রোধ করে। এছাড়া চুলের স্থিতিস্থাপকতা এবং উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্থ চুল মেরামত করতে সহায়তা করে।
  5. ক্ষতিকর ইউভি বিকিরণ এবং দূষণ দ্বারা উৎপাদিত মুক্ত র‍্যাডিকেলগুলো দূর করতে সাহায্য করে ভিটামিন-ই। 
  6. ভিটামিন-ই ত্বকের পৃষ্ঠে একটি প্রতিরক্ষামূলক বাধা তৈরি করে যা আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। 
  7. ভিটামিন-ই তেল চুলের আগা ফাটা রোধ করে এবং চুলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চুলে যোগ করে উজ্জ্বলতা।

যেসব উপায়ে চুলে ব্যবহার করতে পারেন ভিটামিন-ই

  • একটি ভিটামিন-ই ক্যাপসুল ছিদ্র করে সরাসরি ঘষে ঘষে লাগান মাথার ত্বকে। একটু সময় নিয়ে ম্যাসাজ করবেন। ১ ঘণ্টা পর ভেষজ শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল ধুয়ে ফেলুন।
  •  ২টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল থেকে তেল বের করে ২ চা চামচ অলিভ অয়েল অথবা নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। ১ ঘণ্টা পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 
  • একটি কলা চটকে নিন। ৩টি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে চুলের লাগান। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • চুলের আগা ফাটা দূর করার জন্য কয়েকটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল থেকে তেল সংগ্রহ করে হাতের তালুতে নিন। এবার চুলের আগায় লাগান এই তেল।
  • ২ টেবিল চামচ টক দইয়ের সঙ্গে কয়েকটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল মেশান। মিশ্রণটি চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে রাখুন ৪০ মিনিট। মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করে পরিষ্কার করে ফেলুন চুল

Post a Comment

Previous Post Next Post

POST ADS1

POST ADS 2