নারীর যোনীর চেয়ে বড় শত্রু আর কেউ না। জেনে নিন ?

 

নারীর যোনীর চেয়ে বড় শত্রু আর কেউ না। জেনে নিন ?

নারীর যোনীর চেয়ে বড় শত্রু আর কেউ না। জেনে নিন ?


বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি বোধহয়, একদিন পাশের বাসার আপুর সাথে একটি মৃত শিশুর লাশ দেখতে গিয়েছিলাম জোবরার ভিতরে।


১০ বছরের ছোট মেয়ে, ধান কাটার মৌসুমে, লোক ভাড়া করা হয়েছিল। সেই মজুরদের মধ্যে একজন ২০ বছরের নরপশু মেয়েটিকে চকোলেট এর লোভ দেখিয়ে দূরে ধান ক্ষেতের আড়ালে নিয়ে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে।


মেয়েটির গলা অব্দি, আখের আর ধানের আঁশ ছিল। মেয়েটি যখন চিৎকার করছিল তখন সে তার মুখে ওসব আঁশ ঢুকিয়ে দিয়েছিল। ছিন্ন বিছিন্ন যোনী নিয়ে তার শরীর ফুলে ঢোল হয়ে গিয়েছিল।


মেয়েটিকে লুকিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম। দেখার পর অনেকদিন স্বাভাবিক হতে পারিনি। সত্যিকার অর্থে নিজের ব্যক্তি জীবনে বেশ ঝামেলায় আছি, বিশেষত আর্থিকভাবে। তবু রোজ রোজ ধর্ষণের খবর আমাকে সব ভুলিয়ে দেয়।


আমার চারপাশের লোকজন বলে নিউজ পড়ো না, শুনো না। আমারও মনে হয়, চোখ কান বন্ধ করে ফেলাই বোধহয় একমাত্র উপায়।


কিন্তু পারি না। রূপার মধ্যে আমি আমাকে দেখি, একটা মেয়ে স্নাতকোত্তর পাশ করে, ল পড়ছিলো, চাকুরী করছিলো, এরাই তো সত্যিকার ফেমিনিস্ট, আর্থিক সক্ষমতা অর্জন যে নারীবাদ বা নিজের স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম পাঠ।


আমিও মেয়েটার মতো পাবলিক বাসে করে অফিসে যেতাম, বাসায় ফিরতাম, আমিও প্রত্যেক অল্টারনেটিভ উইকে চিটাগাং যেতাম, বাসে করে একা একা তাও রাতে। কিংবা ট্রেনে, বন্ধুদের সাথে পাহাড়ে ক্যাম্পিং, একা একা দেশে, বাইরে যেতে হয়েছে।


আমি খুব ভাগ্যবান আমার বিশ্বাস করা বন্ধুরা বিশ্বাস ভাঙেনি। চেহারা পাল্টে পশু হয়নি। নাহয় হয়তো আমিও কোন বাসে, বা বনানীর মেয়েদের মতো ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতাম। সারাদিন মাথার মধ্যে ছিন্ন বক্ষ, রক্ষাক্ত যোনী, আর খাবলা খাবলা মাংসের ছবি আর গন্ধ নিয়ে ঘুরছি, আজো দুধ আর স্তনের তফাৎ বুঝে উঠতে পারেনি একালের নরপশুরা।


যে যোনী ছিঁড়ে এ পৃথিবীতে এসেছে, যে স্তন পান করে বড় হয়েছে, সেটা এক খাবলা ভোগের মাংস ছাড়া আর কিছু না। পচা মাংস, রক্তাক্ত, ছিন্ন, কাটা মাংস, স্তন, যোনীতে ভরে গেছে আমার দেশ, আমার মা, মাটি।


পাঁচ বছরের পূজার ছোট শরীরটাও নারী মাংস। যে বাবা তার মেয়েকে নিয়ে রেলে মাথা দিয়ে মরলো, তার নিজের ছিন্ন মাংস, আর শরীরটার ভার এতো হয়েছিল যে সে আর ঐ মাংসল শরীর বহন করতে পারেনি।


যে পুলিশের কনস্টেবল নারীটি আত্মহত্যা করলো, সেও বোধহয় পচা স্তন আর ছিন্ন যোনীর ভার নিতে পারে নি আর। যে স্কুল শিক্ষিকাকে তার স্বামীর সামনে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হলো, তার সেই স্তন কি আর কোনদিন শিহরিত হবে?


আমার চোখের সামনে অসংখ্য ছিন্ন স্তন, বেড়িয়ে আসা যোনীর মিছিল। নারীর শরীরের চেয়ে বড় শত্রু যেন আর কেউ না। সারাজীবন এ শরীর বাঁচিয়ে চলতে গিয়ে নারী বন্দীনি হয়েছে, তবু মুক্তি মিলে নি।


শহরতলীতে তো ব্রোথেল আছে তবু। কিন্তু পুরুষ বড় অদ্ভুত। যে সহজে ধরা দেয়, শরীরকে জীবিকা করে, তাতে তাদের অরুচি। তাদের চাই অনাঘা্তা, ভালো মেয়ে।


আমি আমার ছিন্ন স্তন আর যোনীর গন্ধ পাই, শকুনরা ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায়। তবু শহরে আলোর উৎসব বন্ধ হয়নি। শরীরের বাজার, মন্দির-মসজিদের বাজার, মাংসের বাজার, কাটা, থেঁতলানো, মটকে দেয়া, রক্ত জমা কালো মুখটা কি আমার? নাকি সেও একটা যোনী, এক টুকরো উষ্ণ নরম মাংস? আমার স্বদেশ এ ছিন্ন বক্ষ, রক্তাক্ত যোনীর আর্তনাদ বইতে পারবে তো? এ আমার স্বাধীন স্বদেশ তো?


সন্ধ্যা থেকে পিৎজা আর কাবাব বানাতে বানাতে, চারকোলের মাংস কাটতে কাটতে, চর্বি ধুতে ধুতে আমি শুধু নারী মাংসের গন্ধ পাই। মনে হয়, এ স্বাধীন স্বদেশে বালিকার স্তন কেটে কাবাব বানিয়ে খাচ্ছে নরপশুরা। আমার বমি আসছে, সব মাংস, তাল তাল কাটা, ছেঁড়া দুধ, আর যোনীর মাংস। ঘর থেকে বের হওয়া সকল মেয়ে জনগণের সম্পত্তি।


আমি একটা মাংস, কাবাবের মাংস, রূপা একটা মাংস, পূজা একটা মাংস। আমরা কি কখনো মানুষ হবো? ভয়ংকর বিপন্ন লাগছে নিজেকে।

Post a Comment

Previous Post Next Post

POST ADS1

POST ADS 2