#Post ADS3

advertisement

সহবাসের যে ১৭ বিষয় জানা জরুরি মুমিনের, স্বামী ও স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম

 

মহান আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার সকল নিয়ামতের মধ্যে অন্যতম একটি নিয়ামত হলো স্বামী-স্ত্রী। একজন স্বামী স্ত্রীর সবচেয়ে আনন্দের মূহুর্ত হলো যৌন মিলন। ইসলাম যৌন মিলন শুধুমাত্র স্বামী স্ত্রীর জন্য বৈধ্য করেছে।

স্বামী স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম আছে যা আমরা অনেকেই জানি না। এছাড়াও সহবাসের পূর্বে এবং পরে কিছু কাজ থাকে যা আমরা করি না। সমাজে স্বামী স্ত্রী সহবাসের কিছু কুসংস্কার আছে। আজকে আমরা স্বামী-স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম সহ সকল বিষয় বিস্তারিত জানবো।

সহবাসের আগে কি কি কাজ করা উচিত?

সহবাস স্বামী স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ। একজন স্বামী-স্ত্রী যৌন মিলনের ফলে চরম সুখ অনুভব করে যা অন্য কোন ভাবে সম্ভব না। কিন্তু সমাজে দেখা যায় নারী পুরুষ উভয়ই ইসলামিক কোন নিয়ম ছাড়াই সহবাসে লিপ্ত হয়ে যায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় নারীর সহবাসের ইচ্ছা কমে যাচ্ছে আবার অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের ইচ্ছা বা আগ্রহ কমে যাচ্ছে।  এই সকল সমস্যার অন্যতম কারন হচ্ছে সহবাসের পূর্ব প্রস্তুতি।

স্বামী স্ত্রী ইচ্ছা করলেই সহবাস বা যৌন মিলন করতে পারে। কিন্তু আপনি একটি স্বাভাবিক ভাবে চিন্তা করে দেখেন, একজন পুরুষ সারাদিন বাইরে থাকে। সারাদিনের ঘাম, ময়লা ও দুর্গন্ধ থাকে তখন যদি স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হয়ে যায় তাহলে স্ত্রীর সহবাসের যে আনন্দ থাকে তা কিন্তু সে পায় না। স্ত্রীর ক্ষেত্রের একই। স্ত্রী সারাদিন ঘরের কাজ করে। হঠাৎ করে যদি সে মিলনে চলে যায় তাহলে তার শরীরের ঘাম, দুর্গন্ধ থাকে তখন স্বামীর যৌন ইচ্ছা কিন্তু অনেকটাই কমে যায়। আর সাধারতন সবাই চায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে।

তাই সহবাসের পূর্বে অবশ্যই ভালবাসে পরিষ্কার পরিছন্ন হয়ে নিবেন দুজনেই। এক্ষেত্রে ছেলেরা এখানে বেশি ভুল করে। সহবাসের আগে ভাল করে হাত মুখ ধুয়ে আসে না এমনকি তাদের মুখের থেকেও গন্ধ আছে। সহবাসের পূর্বে বগল, নাভি, যৌনাঙ্গের লোম ইত্যাদি পরিষ্কার করে নিবেন। আর শরীরে যদি দূর্গন্ধ থাকে তাহলে পারফিউম ব্যবহার করতে পারেন। এর ফলে কি হবে জানেন, স্বামী স্ত্রী উভয়ের যৌন ইচ্ছা এবং চাহিদা বাড়বে সাথে সাথে যৌন মিলন অনেক আনন্দের হবে। যৌন মিলন কোন বিরক্তের কারন হয়ে দাড়াবে না। এটাও কিন্তু স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম। হযরত আয়িশা (রা) বলেন –

আমি রাসূল (সা) কে মিলনের পূর্বে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতাম এরপর তিনি তার স্ত্রীদের কাছে গমন করতেন।

আপনার স্ত্রী এখানে তারাহুরার কিছু নেই। যৌন মিলনের পূর্বে আপনি ও আপনার স্ত্রী দুজনেই একদম ফিটফাট হয়ে আসবেন পরে নিজের ইচ্ছেমত সহবাস করতে পারেন। কিছু পুরুষ আছে এরা সহবাসের পূর্বে নিজের দাঁতও পরিষ্কার করে না। কিস করার সময় স্ত্রী দূর্গন্ধ অনুভব করে যার ফলে কিন্তু সহবাসের চরম সুখ পাওয়া যায় না এবং স্ত্রীর একটু বিরক্তবোধ কাজ করে।

স্বামী স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম
মহান আল্লাহ তায়ালা বিয়ের মাধ্যমে নারী পুরুষদের একত্রিত করেছে এবং তারা দুজন স্বামী স্ত্রীতে পরিনত হয়েছে। স্বামী স্ত্রী উভয়ের যৌন মিলনের জন্য অনুমতি দিয়েছে। আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে ইচ্ছে হলেই সহবাস করতে পারবেন। তবে ইসলামে সহবাসের কিছু নিয়ম নীতি বলে দিয়েছে যেটা আমাদের মঙ্গলের জন্য। আমরা যদি ইসলামিক নিয়মে সহবাস করি তাহলে যৌন মিলন যেমন মধুর হবে তেমনি যৌন মিলনের ফলে যে সন্তান আসবে তা নেক সন্তান হবে। স্ত্রীর সহবাসের ইসলামিক নিয়ম গুলো আল্লাহ আমাদের মেনে চলার তৌফিক দান করুক আমিন।

স্বামী স্ত্রী সহবাসের পূর্বে এই দোয়াটি পরুন:

بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

উচ্চারনঃ ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাযাক্বতানা।’

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তোমার নামে আরম্ভ করছি (যৌন মিলন বা সহবাস)। তুমি আমাদের কাছ থেকে শয়তানকে দূরে রাখ। আমাদের এই মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবে, সে সন্তাকেও শয়তানের আক্রমন থেকে দূরে রাখ।


এই দোয়াটি পড়ার পরে স্বামী স্ত্রী যৌন মিলন শুরু করতে পারে। পুরুষরা এখানে একটু ভুল করে মিলন মানেই তারা ভাবে যৌনাঙ্গে পুরুসাঙ্গ ঢুকিয়ে দেওয়া। বিষয়টা কিন্তু এমন নয়। সহবাসে যেমন ইসলামিক নিয়ম আছে তেমনি ডাক্তারাও সহবাসের কিছু নিয়ম বলে দিয়েছে। উপরের দোয়াটি পড়ার পরে আপনি আপনার স্ত্রীকে কিস  করুন পাশাপাশি তার সমস্ত শরীরে হাত বুলিয়ে দিন। তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে তাকে উত্তেজিত করুন।

সহজ ভাবে বলতে গেলে  স্ত্রীর যৌনাঙ্গে পুরুষাঙ্গ প্রবেশের পূর্বে আপানর স্ত্রীকে উত্তেজিত করে নিবেন। সাধারতন নারীদের উত্তেজিত করার সবচেয়ে সহজ রাস্তা হচ্ছে তার ঠোটে কিস করা, তার স্তনে কিস করা ও হাত বুলিয়ে দেওয়া, তার সারাসরিলে কিস করে দেওয়া ইত্যাদি। যখন আপনার স্ত্রী অধিক উত্তেজিত হয়ে যাবে তখন বিসমিল্লাহ বলে আপনার স্ত্রীর যৌনাঙ্গে প্রবেশ করুন। স্ত্রীরও উচিত স্বামীর সব জায়গায় হাত বুলানো, শরীরের সহ জায়গায় কিস করা এর ফলে স্বামীও চরম সুখ অনুভব করবে এবং স্ত্রীকেও অধিক সময় আদর করতে ইচ্ছা জাগবে।

সহবাসের পজিশনের ক্ষেত্রে ইসলাম কোন বাধা বা নিষেধ করেন নি।

সূরা বাক্বারা- ২২৩ বলা আছে – তোমাদের স্ত্রী তোমাদের ফসলক্ষেত্র। সুতরাং তোমরা তোমাদের ফসলক্ষেত্রে গমন কর, যেভাবে চাও।

আপনি আপনার স্ত্রী সাথে যেভাবে খুশি সেভাবেই সহবাস করতে পারেন। আপনি চাইলে শুয়ে, বসে, দাড়িয়ে, স্ত্রীকে আপনার উপরে বা আপনি স্ত্রীর উপরে হয়ে সহবাস করতে পারেন। তবে সহবাসের পথ হবে একটাই যোনিপথ। স্ত্রী মলদ্বারে সহবাস বা যৌনাঙ্গ প্রবেশ করা যাবে না।

আপনার যখন ইচ্ছা আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারেন। তবে আপনার বীর্য বের হয়ে গেলে কিছুটা সময় আপনার স্ত্রীর উপরে শুয়ে থাকতে পারেন এতে আপনার স্ত্রীর ভাল লাগবে। ইসলামে শুধুমাত্র আপনার তৃপ্তিকেই গুরুত্ব দেয় নি আপনার স্ত্রীর তৃপ্তিকেও গুরুত্ব দিয়েছে। তাই শুধুমাত্র আপনার সুখের কথা চিন্তা করলে হবে না আপনার স্ত্রী হ্যাপি কিনা সেটা খেয়াল করতে হবে। বেশিরভাগ পুরুষরাই নারীদের যৌন তৃপ্তির প্রতি নজর দেয় না এর ফলে তাদের বৈবাহিত জীবনের পাশাপাশি যৌন জীবনও সুখ নেই।

স্বামী আনন্দ পাচ্ছে, কিন্তু স্ত্রী সুখ বোধ করছে না, অথবা স্ত্রী সন্তুষ্ট, কিন্তু স্বামী সুখী নয়, এরূপ আসন নির্বাচন করা যাবে না। তাতে দাম্পত্য জীবনে আনন্দের ঘাটতি দেখা দিবে। দুজনকেই দুজনের সুখের কথা চিন্তা করতে হবে। তাহলেই সুখি হওয়া যাবে।

সহবাসের পর করণীয় কি?
সহবাস শেষ হওয়ার পরে স্বামী স্ত্রীর উভয়েই দ্রুত যৌনাঙ্গ ধুয়ে ফেলা উচিত এর ফলে যৌনাঙ্গে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে বাচঁতে পারবেন। সবচেয়ে ভাল যদি আপনি হালকা গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন। ঠান্ডা পানি দিয়ে যৌনাঙ্গ ধোয়া উচিত না। স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম এর মধ্যে এটি নেই কিন্তু ডাক্তারদের মতে সহবাসের পরে হালকা গরম পানি নিয়ে যৌনাঙ্গ ধুয়ে নেওয়া উত্তম। তাছাড়া আপনারা সাথে সাথে গোসল করে নিতে পারেন আর যদি গোসল করতে ইচ্ছা না করে তাহলে পরে নামাজের আগে গোসল করলেও সমস্যা নেই।

তবে যদি প্রথমবার সহবাস শেষে দ্বিতীয়বার সহবাস করতে ইচ্ছা করে বা আপনি পুনরায় সহবাস করতে চান তাহলে আগে ওষু করে নেওয়া মুস্তাহাব। এই প্রসঙ্গে রাসূল (সা) বলেছেন –

তোমাদের কেউ (স্বামী স্ত্রী) সহবাস করার পরে যদি দ্বিতীয়বার সহবাস করতে চায় তাহলে সে যেন ওযু করে নেয়। এটা তার দ্বিতীয় সহবাসকে স্বাদময় করবে।

আরো পড়ুন – হস্ত মৈথুনের ক্ষতিকর প্রভাব ও বাচার উপায়

ইসলামে সহবাসের নিষিদ্ধ গুরুত্বপূর্ন বিষয়
ইসলামিক নিয়ম মেনে সহবাস করলে অনেক সওয়াব হয় এবং আল্লাহ তায়ালা অনেক খুশি হয়ে যান। ভুল ভাবে সহবাস করলে গুনাহ হবে। আমরা অনেকেই নিজের অজান্তেই গুনাহের কাজ করে ফেলি। সহবাস করার যেমন ইসলামে কিছু নিয়ম আছে তেমনি কিছু নিষিদ্ধতাও আছে। যা আমাদের জানা জরুরী।

সর্ব প্রথম মাসিক বা পিরিয়ড চলা কলীন সময় সহবাস করা যাবে না। অনেকেই স্ত্রীকে জোর করে মাসিকের সময় সহবাস করে বলে জানা যায়। পিরিয়ডের সময় নারীদের পেটে ব্যথা হয়ে থাকে। জেনে নিন পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায়।

এরপরে পায়ুপথে বা মলদ্বারে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা যাবে না। এটা সম্পূর্ন রুপে নিষেধ করা হয়েছে। আপনার স্ত্রী আপনি যেভাবে খুশি সেভাবেই যৌন মিলন করতে পারেন কিন্তু মলদ্বারে সহবাস বা মিলন করা যাবে না, এতে আপনার অনেক গুনাহ হবে। হাদিসে আছে হযরত মুহাম্মদ (সা) বলেছেন – যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে মলদ্বারে সঙ্গম করলো আল্লাহ তার দিকে দয়ার দৃষ্টিতে তাকান না। তাই এক্ষেত্রে আমাদের অনেক সতর্ক হতে হবে।

এরপরে সহবাসের সময় নিজের স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন স্ত্রীর কথা ভাবা বা কল্পনা করা যাবে না। অনেকে এখানে না জেনেই ভুল করেন। আপনার স্ত্রীর সাথে মিলন করার সময় কখনোই অন্য কোন মেয়ের কথা মাথায়ও আনবেন না।

এরপরে রোজা থাকা অবস্থায় কোন ভাবেই সহবাস বা যৌন কাজ করা যাবে না তাহলে রোজে ভেঙ্গে যাবে। তবে স্বামী স্ত্রী একে অন্যকে কিস করতে পারে কিন্তু কোন ভাবেই যেন যৌন রস বের না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রমজান মাসে ইফতারির পরে হতে সেহেরীর আগ পর্যন্ত অনেক সময় আছে তখন আপনি সহবাস করতে পারেন এতে কোন নিষেধ নেই।

এরপরে স্ত্রী অসুস্থ থাকা অবস্থান সহবাস করবেন না। এতে আপনার স্ত্রী আরো অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও ডাক্তাররাও অসুস্থ অবস্থায় সহবাস করতে নিষেধ করেছেন। স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম আমাদের মেনে চলতে হবে।

এর পরে হজ্জ্ব বা ওমরার ইহরার অবস্থান কোন যৌন কাজ করা যাবে না।

রমজান মাসে সহবাসের ইসলামিক নিয়ম
রমজান মাস চলাকালীন সময় অনেকে ভেবে থাকি এই একমাস সহবাস করা যাবে না। অনেকে আবার ভয় পেয়ে থাকে যে গুনাহ হবে। কিন্তু ইসলামে রমজান মাসেও সহবাস করার অনুমতি দিয়েছে। চলুন জেনে নেই…

শুধুমাত্র রোজা থাকা অবস্থায় আপনি সহবাস করতে পারবেন না বাকি যে কোন সময় সহবাস করতে পারবেন। যেমন ধরেন ইফতারির পর থেকে সেহরির আগ পর্যন্ত যে কোন যৌন কাজ আপনি করতে পারেন। তবে যদি রোজা থাকা অবস্থায় স্বামী স্ত্রী জড়িয়ে ধরে ঘুমায়, কিস করেন, স্তনে হাত দেওয়া ইত্যাদি জায়েজ কিন্তু এর ফলে যেন বীর্যপাত না হয়। অনেক সময় রোজা থাকা অবস্থায় স্ত্রীর সাথে থাকলে যৌন ইচ্ছা হয় ফলে বীর্যপাত হতে পারে তাই এদিকে সাবধান থাকতে হবে।

যৌনতা মানুষের জীবনের একটি অত্যাবশ্যকীয় অধ্যায়। যৌনতা শুধুই উপভোগের ব্যাপার নয়। এর মাধ্যমেই সৃষ্টিকর্তার জমিনে মানুষের আবাদ চলমান থাকে। যৌনতা আছে বলেই হাজার হাজার বছর ধরে পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব টিকে রয়েছে। তাই যৌনতাকে হালকা চোখে না দেখে বরং গুরুত্বের চোখে দেখা দরকার।

সর্বাধুনিক এবং শান্তির ধর্ম ইসলাম বৈধ যৌনতাকে উৎসাহিত করেছে। বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর মিলনে রয়েছে অপার রহমত ও সওয়াব।

কিন্তু অনেকেই হয়ত ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক সহবাসের স্বাভাবিক নিয়ম বা পন্থা সম্পর্কে জানেন না। এখানে এ বিষয়ে মানবকণ্ঠের পাঠকদের একটু ধারণা দেয়া হলো।

যদিও হাদিস থেকে বিভিন্ন আসনে সহবাস করার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। তবে সহবাসের স্বাভাবিক পন্থা হলো এই যে, স্বামী উপরে থাকবে আর স্ত্রী নিচে থাকবে। প্রত্যেক প্রাণীর ক্ষেত্রেও এই স্বাভাবিক পন্থা পরিলক্ষতি হয়।

বলা হয়েছে, স্ত্রীরা হচ্ছে স্বামীর শস্য ক্ষেতের তুল্য। তা আবাদের জন্য, উপভোগের জন্য সর্বপ্রকার স্বাধীনতা দিয়েছে ইসলাম। তবে কিছু বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে মুমিন মুসলমানকে। সেগুলো হলো-

১। রাত্রি দ্বি-প্রহরের আগেসহবাস করবে না।

২। ফলবান গাছের নিচে স্ত্রী সহবাস করবে না।

৩। সহবাসের প্রথমে দোয়া পড়বেন। স্ত্রী সহবাসের দোয়া। তারপর স্ত্রীকে আলিঙ্গন করবেন। স্ত্রী যদি ইচ্ছা হয় তখন তাকে ভালোবাসা ও আদর সোহাগ দিবে। চুম্বন দিবে। উভয়ের মনের সহবাসের পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা তৈরি হলে তখন বিসমিল্লাহ বলে শুরু করবেন।

৪। স্ত্রী সহবাস করার সময় নিজের স্ত্রীর রূপ দর্শন, শরীর স্পর্শন ও সহবাসের সুফলের প্রতি মনোনিবেশ করা ছাড়া অন্য কোনো স্ত্রীলোকের বা অন্য সুন্দরী বালিকার রুপের কল্পনা করবে না। তাহার সাহিত মিলন সুখের চিন্তা করবেন না। স্ত্রীর ও তাই করা উচিৎ।

৫। রবিবারে সহবাস করবেন না।

৬। স্ত্রীর হায়েজ-নেফাসের সময় উভয়ের অসুখের সময় সহবাস করবেননা।

৭। বুধবারের রাত্রে স্ত্রীর সহবাস করবেন না।

৮। চন্দ্র মাসের প্রথম এবং পনের তারিখ রাতে স্ত্রী সহবাস করবেননা।

৯। স্ত্রীর জরায়ু দিকে চেয়ে সহবাস করবেন না। এতে চোখেজ্যোতি নষ্ট হয়ে যায়।

১০। বিদেশ যাওয়ার আগের রাতে স্ত্রী সহবাস করবেন না।

১১। সহবাসের সময় স্ত্রীর সহিত বেশি কথা বলবেন না।

১২। নাপাক শরীরে স্ত্রী সহবাস নয়।

১৩। উলঙ্গ হয়ে কাপড় ছাড়া অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করবেন না।

১৪। জোহরের নামাজের পরে স্ত্রী সহবাস করবেন না।

১৫। ভরা পেটে স্ত্রী সহবাস করবেন না, উল্টাভাবে স্ত্রী সহবাস করবেন না।

১৬। স্বপ্নদোষের পর গোসল না করে স্ত্রী সহবাস করবেন না।

১৭। পূর্ব-পশ্চিম দিকে শুয়ে স্ত্রী সহবাস করবেন না।

Post a Comment

0 Comments

advertisement

advertisement