জরায়ু নিচে নেমে যায় কেন প্রতিকার কি?,জরায়ু নিচে নেমে যাওয়ার চিকিৎসা ওপ্রতিকার,জরায়ু নিচে নেমে যাওয়া ,ইউটেরাইন প্রলাপ্স এর ধরণ কারণ



Subject : জরায়ু নিচে নেমে যায় কেন প্রতিকার কি?,জরায়ু নিচে নেমে যাওয়ার চিকিৎসা ও প্রতিকার,জরায়ু নিচে নেমে যাওয়া ,ইউটেরাইন প্রলাপ্স এর ধরণ কারণ,কখন বুঝবেন জরায়ু নিচের দিকে নেমে গেছে,জরায়ু নিচে নেমে আসার কারণ লক্ষন এবং চিকিৎসা,জরায়ু নিচে নেমে যাওয়ার চিকিৎসা কী?,জরায়ু নিচে নেমে গেলে যা করবেন,জরায়ু নিচে নেমে গেলে কি করনীয়?

জরায়ু নিচে নেমে যাওয়া কোন বিরল সমস্যা নয়। মেয়েদের জীবনকালের কোন না কোন সময় , নিজের বা কাছের কারো জরায়ু নিচে নেমে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা। তাই জরায়ু নিচে নেমে গেছে শুনলে চমকে উঠবেন না। অনেক সময় বিভিন্ন কারণে জরায়ু নিচের দিকে নেমে যায়। একে ইউটেরাল প্রলাপস বা পদ্মরোগও বলা হয়। জরায়ু কেন নিচে নেমে যায়, জানা থাকলে নিজের যেমন যত্ন নিতে পারবেন, সেই সাথে কাছের মানুষের উপকারে আসতে পারবেন।

(ads2)


জরায়ু পেটের নিচের দিকের অংশে (পেলভিসে) আটকে থাকে কিছু মাংস, লিগামেন্ট এবং অন্যান্য কিছু সাপোর্ট দিয়ে। জন্মগত ও জন্মের পরের কিছু কারণে এই মাংস ঝুলে যেতে পারে। বয়সের সাথে স্বাভাবিক ভাবেই ইস্ট্রোজেন হরমোনের ঘাটতি হতে থাকে। তখন অনেক মহিলার জরায়ু মুখ যোনির দিকে নেমে আসে। যার ফলে প্রলাপস হয়।

জরায়ু নিচে নেমে যাওয়ার কারণ সমূহঃ

১। জন্মগতঃ যেসব মাংস পেশি জরায়ুকে সঠিক স্থানে ধরে রাখে , তাদের কারো জন্মগত দুর্বলতা থেকে থাকে।

২। জন্মের পরঃ জন্মের পরের বলতে এক্ষেত্রে আমরা সন্তান ধারণের সময়টাকেই বুঝি । সন্তান জন্মধারণের পরে বেশ কিছু কারণে প্রলাপস হতে পারে। জরায়ুমুখ সম্পূর্ণ রকমে খোলার আগেই যদি চাপ দেয়া হয়, অতিরিক্ত টানাটানির কারণে হতে পারে। ডেলিভারি বিলম্বিত হলে, প্লাসেন্টা বের করার জন্যে জরায়ুতে নিচের দিকে অতিরিক্ত চাপ দিলে। অনেক বেশি সন্তান ধারণের ফলে হয়। মা খালা দের মধ্যে যাদের চার – পাঁচ টা নরমাল ডেলিভারি হয়েছে খোঁজ নিলে দেখা যাবে তাদের প্রায় সবারই একটু হলেও এই সমস্যাটা আছেই । বয়স বাড়ার সাথে সাথে মাংস পেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে আসতে থাকে। হরমোনাল সাপোর্টের অভাবও একটি বড় কারণ।

প্রলাপসকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

১। প্রথম ডিগ্রিঃ জরায়ু মুখ তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে কিছুটা নিচে নেমে আসে। কিন্তু যোনি ছিদ্রের বাইরে অবস্থান করে না।

২। দ্বিতীয় ডিগ্রিঃ জরায়ু মুখ যোনি ছিদ্রের বাইরে বের হয়ে আসে। কিন্তু জরায়ুর শরীরের বেশির ভাগ অংশই ভিতরে থেকে যায়। সবসময় বেরও হয়ে আসে না। কাশি দিলে, প্রস্রাব করতে গেলে বের হয় আসে। এমন কি বের হলেও হাত দিয়ে ঢুকিয়ে ফেলা যায়।

৩। তৃতীয় ডিগ্রিঃ জরায়ু মুখ তার শরীর সহ সম্পূর্ণ রূপে বাইরে বের হয়ে আসে এবং আর ভিতরে ঢুকানো যায় না ফলে প্রস্রাব ও পায়খানা করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এই স্টেজে গেলে অপারেশন করা অতিশয় জরুরী হয়ে দাঁড়ায়।

জরায়ু নিচে নেমে যাওয়ার লক্ষণ:

যখন প্রলাপস প্রতীয়মান হয়, ভ্যাজাইনার মধ্যে ভারী কিছু অনুভূত হয়। তলপেটে ভারী ভারী লাগবে। কোমরে ব্যথা হয়, পিঠে ব্যথা হয়।
১। মনে হবে যেন পেটের ভিতরটা ভরে আছে বা চাপ অনুভব করবেন ঠিক যেন ছোট্ট একটি বলের উপর বসে আছেন,

২। কোন কিছু নিচের দিকে নেমে যাওয়ার মত অনুভূতি হতে পারে,

৩। পিঠে ব্যথা ,

৪। হাঁটতে কষ্ট হওয়া,

৫। প্রস্রাব বা পায়খানা করতে সমস্যা হওয়া।

৬। যৌন মিলনে ব্যথা পাওয়া।

ভারী কাজ করলে অনেক সময় অবিবাহিত মেয়েদেরও প্রলাপস হতে পারে। সুতরাং এ রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।

(ads1)

জরায়ু নিচে নেমে যাওয়ার সমাধান

মাংস পেশি কতটা দুর্বল সেটার উপর নির্ভর করে ডাক্তার সমাধান দিবে। অনেক ক্ষেত্রে এক্সারসাইজ করলে পেলভিক মাংস গুলো আবার শক্তিশালী হয়।

বাচ্চা নিতে ইচ্ছুক কিনা তার উপর নির্ভর করে জরায়ুর আশেপাশের কাঠামো ঠিক করা এমনকি জরায়ু সম্পূর্ণ রূপে ফেলে দিতে হতে পারে। সাধারণত পেট কেটে জরায়ু ফেলা হয়। কিন্তু যোনি দিয়ে জরায়ু বেরিয়ে আসলে যোনিপথেও অপারেশন করা হয়। পাশাপাশি যোনি দেয়াল, মুত্রথলি, মূত্র নালির ঝুলে পড়াও অপারেশনের সময় ঠিক করে দেয়া হয়।

আমাদের দেশের বয়স্ক মহিলারা এই সমস্যায় বেশি পড়েন। তাদের মধ্যে অনেকেই অবহেলা ও অযত্নের আশঙ্কায় বলতে চায় না কাউকে এমনকি নিজের পরিবার থেকেও অনেক সময় লুকিয়ে রাখে। আপনার কাছের কেউ যদি এই রোগে ভুগে থাকেন তবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। অনেক বয়স হলেও বড় কোন শারীরিক সমস্যা না থাকলে অপারেশন করা যায়। বয়স হয়ে গিয়েছে ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। শেষ বয়সে এসে প্রস্রাব, পায়খানার কষ্ট কেউই চায় না। সচেতনতাই স্বস্তি।

চিকিৎসা

জরায়ুর মুখ কিছুটা বা সম্পূর্ণ বেরিয়ে এলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ব্যায়ামে (কেগেল এক্সারসাইজ) পেলভিক মাংসপেশি আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বয়স কম এবং সন্তান নিতে আগ্রহীদের ক্ষেত্রে জরায়ু আগের জায়গায় প্রতিস্থাপন করাই হলো চিকিৎসা। সন্তান নিতে আগ্রহী না হলে অথবা বয়স ৫০ বছরের বেশি এবং মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে, এমন রোগীদের জরায়ু কেটে ফেলা হয়।

সতর্কতা

■ সন্তান প্রসবের সময় পাশে অভিজ্ঞ ধাত্রী থাকা বা হাসপাতালে যাওয়া উচিত।

■ প্রসব-পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। সাধারণভাবে বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসবের পর ছয় মাসের মধ্যে কোনো ভারী কাজ করা চলবে না।

■ প্রসব-পরবর্তী যথাসম্ভব দ্রুত স্বাভাবিক হাঁটাচলা শুরু করা উচিত।

■ জরায়ুর আশপাশের মাংসপেশিগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম আছে। এগুলো নিয়মিত করা উচিত।

■ দীর্ঘমেয়াদি কাশি ও কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে চিকিৎসা করাতে হবে।

■ সঠিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ এবং স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সন্তান নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

You Can Email Us Questions & Comments: info@healthcitylife.com

Post a Comment

Previous Post Next Post

POST ADS1

POST ADS 2