জিনসেং এর উপকারিতা,জিনসেং ঔষধ খেলে কি উপকার হয়,জিনসেং খেলে কি হয়,জিনসেং ক্যাপসুল,জিনসেং ক্যাপসুল খেলে কি হয়,জিনসেং এর উপকারিতা কি

 

বিষয়: জিনসেং কী, জিনসেং এর উপকারিতা এবং ক্ষতি,জিনসেং সিরাপ খেলে কি হয়, জিনসেং ক্যাপসুল খেলে কি হয়,জিনসেং এর উপকারিতা, Ginseng capsules benefits,জিনসেং এর ১০টি কার্যকারিতা,জিনসেং এর এই ১০টি উপকারিতা সম্পর্কে আপনি হয়তো জানেনই না

জিনসেং কী ?

জিনসেং হল গাছের মূল। গাছটির নামই হল জিনসেং। মূলত দুই ধরণের জিনসেং ঔষধি গুণসম্পন্ন হিসেবে পরিচিত – অ্যামেরিকান এবং এশিয়ান। এর মধ্যে এশিয়ান জিনসেং অনেকবেশি কার্যকরী। এই দুই ধরণের জিনসেংকে প্যানাক্স জিনসেং। প্যানাক্স শব্দটি গ্রীক শব্দ “panacea” থেকে এসেছে, এর অর্থ হল “All healer” বা সর্ব রোগের ঔষধ। জিন সাদা (খোসা ছাড়ানো) ও লাল (খোসা সমেত) এই দুই রকম পাওয়া যায়। খোসা সমেত অবস্থায় এটি অনেক বেশি কার্যকরী। জিনসেং এর মধ্যে উপস্থিত জিনসেনোসাইড নামক উপাদানটি এর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এনার্জি বুস্টার হিসেবে যুগ যুগ ধরে কোরিয়াতে এই পানীয়র ব্যবহার চলে আসছে। জিনসেং কে wonder herbs বা আশ্চর্য লতা বলা হয়। চীনে সহস্র বছর ধরে জিনসেং গাছের মূল আশ্চর্য রকম শক্তি উৎপাদনকারী পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অনেকে জিনসেং চা হিসেবে খেয়ে থাকেন।

(ads1)

জিনসেং এর প্রকারভেদ

পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জিনসেং রয়েছে সেগুলি হল, এশিয়ান জিনসেং, অ্যামেরিকান জিনসেং, সাইবেরিয়ান জিনসেং, ইন্ডিয়ান জিনসেং এবং ব্রাজিলিয়ান জিনসেং। এই প্রতিবেদনে আমরা এশিয়ান এবং অ্যামেরিকান জিনসেংয়ের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করব। কারণ এতে সর্বাধিক পরিমাণে জিনসেনোসাইড রয়েছে, যা জিনসেংয়ের অন্যতম উপকারী উপাদান।

জিনসেং এর উপকারিতা

১. এনার্জি বাড়ায় : এনার্জি বাড়াতে এবং অবসন্নতা কাটিয়ে উঠতে জিনসেং ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। যারা মানসিক এবং শারীরিকভাবে ক্লান্ত বোধ করছেন তাদের জন্য এই ভেষজ উপাদানটি দারুণ কার্যকরী। পরীক্ষায় দেখা গেছে, জিনসেং ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে ।

ক্লান্তি কমাতে এবং শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়াতে জিনসেং পরিপূরকগুলি পাওয়া গেছে, যদি এটি প্রমাণ করতে আরও অধ্যয়ন প্রয়োজন।

২. ক্যানসার প্রতিরোধ করে : টিউমার বৃদ্ধি রোধ করার ক্ষমতা একে ক্যানসারের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরোধক হিসেবে গড়ে তুলেছে। জিনসেং টি সেল এবং এনকে সেলগুলির (প্রাকৃতিক ঘাতক কোষ) কার্যকারিতা বাড়িয়ে কোষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। এটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধেও লড়াই করে এবং ক্যানসার কোষের মৃত্যু ঘটায় ।

পরীক্ষায় আরও দেখা গেছে, জিনসেংয়ের মধ্যে উপস্থিত জিনসেনোসাইডগুলি ফুসফুসের ক্যানসার প্রতিরোধ করে এবং কিডনি, ডিম্বাশয়, পেট, ত্বক এবং জরায়ুর ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে ।

৩. ওজন কমায় : জিনসেং পরিপাক ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, কীভাবে জিনসেং ইঁদুরের দেহের ওজন কমাতে পারে। অন্যান্য পরীক্ষায় এর স্থূলতা বিরোধী প্রভাবও প্রমাণিত হয়েছে । তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি ক্ষুধা হ্রাস করে যা এর অন্যতম একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে : বেশকিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে অ্যামেরিকান জিনসেং টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে । পরীক্ষায় আরও দেখা গেছে, জিনসেং ইনসুলিন সংবেদনশীলতার উন্নতি করে এবং যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এটি সুস্বাস্থ্যকর ।

৫. যৌনক্ষমতা বাড়ায় : জিনসেংকে অনেকে ভেষজ ভায়াগ্রা বলে থাকে, এর পিছনে অবশ্য কারণও রয়েছে। গবেষণায় প্রমাণিত এটি ইরেকটাইল (বা যৌন) কর্মহীনতার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ ।

আরেকটি উপায়েও এটি পুরুষদের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করে তা হল এটি নাইট্রিক অক্সাইডের মাত্রা বাড়ায়, যা লিঙ্গকে শিথিল করে এবং রক্তপ্রবাহকে উদ্দীপিত করে। এই চা উদ্ভিদ উৎস থেকে প্রাপ্ত ফাইটো টেস্টোস্টেরনের উৎস। জিনসেং শুক্রাণু গণনাকে উন্নত করে এবং এড্রেনাল এবং প্রোস্টেট গ্রন্থিগুলির কার্যকারিতা বাড়ায় ।

৬. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায় : জিনসেং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালজাইমার সমস্যা সমাধান করতে পারে ।

৭. স্ট্রেস কমায় : পরীক্ষায় দেখা গেছে, জিনসেং মুড ঠিক রাখতে এবং মানসিক চাপ কমাতে কার্যকরী ।

৮. প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় : পরীক্ষায় প্রমাণিত, জিনসেং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশির সমস্যা কম করে । আরও একটি কোরিয়ার গবেষণায় দেখা গেছে, জিনসেং ম্যাক্রোফেজস, প্রাকৃতিক ঘাতক কোষ, টি সেল, বি সেল, ডেন্ড্রিটিক সেল সহ বিভিন্ন ধরণের প্রতিরোধক কোষকে নিয়ন্ত্রণ করে। জিনসেংয়ের এই উপাদান জ্বালা যন্ত্রণা কমায় এবং জীবাণু সংক্রান্ত সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে ।

অ্যান্টি এজিং : গবেষণা অনুযায়ী, জিনসেং অ্যান্টি এজিং উপাদান হিসেবে কাজ করে।  ভেষজ এই ঔষধি কোলাজেন বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা ত্বককে বলিরেখা মুক্ত করে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

১০. জ্বালা–যন্ত্রণা কমায় : জিনসেংয়ের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে এই প্রভাব জিনসেসোসাইডের ভূমিকাকে প্রভাবিত করে। যাদের আর্থারাইটিস বা গাটের ব্যথা রয়েছে তাদের জন্য এটি উপকারী । তাছাড়াও এটি পেটে ব্যথা ও অন্ত্রে জ্বালা-যন্ত্রণা কমাতে দারুণ কাজ করে।

১১. ফুসফুস কার্যকারিতা উন্নত করে : পরীক্ষায় দেখা গেছে, জিনসেং ফুসফুসে ব্যকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে ।

Chronic obstructive pulmonary disease (COPD) হচ্ছে ফুসফুসের অন্যতম সাধারণ একটি সমস্যা। এক্ষেত্রে রোগীদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুকে কফ জমে, কারও ক্ষেত্রে ফুসফুসের ক্ষয় গটে। জিনসেং গ্রহণে সার্বিকভাবে COPD এর অবস্থার উন্নতি হয় বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে ।

১২. ত্বকের সুস্বাস্থ্য : জিনসেংয়ের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান রোজেসিয়া সহ ত্বকের নানা সমস্যা সমাধানে দারুণ কাজ করে । ত্বকে পুষ্টি জোগায় এবং উজ্জ্বল করে তোলে।

১৩. চুলের যত্ন : জিনসেং চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। জিনসেং এক্সট্রাক্ট চুলের ফলিকলগুলিকে শক্তিশালী করে এবং চুল পড়া রোধ করে । স্কাল্পের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে এবং চুলে পুষ্টি জোগায়।

জিনসেংয়ের পুষ্টিগত মান

পুষ্টিগুণপরিমাণRDI (Recommended Daily Intake)
ক্যালোরি২৫
ফ্যাট থেকে ক্যালোরিগুলি০%
টোটাল ফ্যাট০.০ g.০%
স্যাচুরেটেড ফ্যাট০.০ g.০%
কোলেস্টেরল০.০ g.০%
সোডিয়াম৫ mg.০%
কার্বোহাইড্রেট৬.০ g.২%
ডায়েটারি ফাইবার০.০ g.০%
সুগার৬.০ g.২%
প্রোটিন০.০ g.০%
ভিটামিন এ০.০ g.৪%
ভিটামিন সি৬%
ক্যালসিয়াম০%
আয়রন০%

জিনসেং শিকড় কীভাবে ব্যবহার করবেন


(ads2)

জিনসেং চা হিসেবে গ্রহণ করা সবচেয়ে সেরা। এই উপায়ে আপনি সবচেয়ে বেশি উপকার পাবেন। কাছাকাছি কোনও দোকান থেকে এর টি ব্যাগ কিনে ব্যবহার করতে পারেন। এই উপায়ে ব্যবহার করতে পারেন –

  • শিকড়ের খোসা ছাড়িয়ে নিন। তারপর গুঁড়ো বা শুকনো করে শিকড় ব্যবহার করতে পারেন।
  • এক চামচ শিকড়ের গুঁড়ো নিন এবং একটি ধাতব পাত্রে রাখুন।
  •  ভালো করে ফুটিয়ে নিন এবং ২ থেকে ৩ মিনিটের জন্য ঠান্ডা হতে দিন।
  • একটি চায়ের কাপে ঢেলে নিন এবং চুমুক দিয়ে খান।
  • জিনসেং চা ছাড়াও আপনি জিনসেং পাওডার খেতে পারেন।

জিনসেং কতটা পরিমাণে খাবেন

  • যাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস রয়েছে, প্রতিদিন ২০০ মিলিগ্রাম ব্যবহার করুন।
  • যাদের যৌন সমস্যা রয়েছে তারা সারাদিনে তিনবার ৯০০ মিলিগ্রাম জিনসেং নিতে পারেন।
  • ক্লান্তি বা স্ট্রেস যাদের ভোগান্তির কারণ তারা প্রতিদিন ১ গ্রাম জিনসেং নিন।

প্রয়োজনে ডাক্তারের সঙ্গে এবিষয়ে পরামর্শ নিন।

জিনসেং কোথায় থেকে কিনবেন 

জিনসেংয়ের জনপ্রিয়তা যেভাবে দিন দিন বেড়ে চলছে, বাজারে যে কোনও বড় হেল্থ ফুড স্টোরে সহজেই এটি পেয়ে যাবেন। আজকাল অনলাইনেও কিনতে পারেন।

জিনসেংয়ের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

এর উপকারিতা যেমন রয়েছে তেমনই খারাপ প্রভাবও রয়েছে। জিনসেংয়ের অন্যতম পাশ্বপ্রতিক্রিয়া হল ঘুমের সমস্যা। চা, কফির মতো এর থেকে ঘুম আসতে দেরি হয়। জিনসেং স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে ও মানসিক ক্ষমতা বাড়ায়। এর অন্যান্য সাধারণ সমস্যা হল ডায়ারিয়া, মাথাব্যথা, হার্ট বিট বাড়ে এবং ব্লাড প্রেসারে সাময়িক তারতম্য হয়। এছাড়াও যে যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় –

  • বাচ্চাদের সমস্যা

ছোটো বাচ্চাদের জন্য জিনসেং নিরাপদ নয়। তাই যতটা সম্ভব তাদের থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন।

  • গর্ভবতী এবং মায়েদের সমস্যা

জিনসেংয়ের মধ্যে কিছু উপাদান রয়েছে যা গর্ভপাতের কারণ হতে পারে। যারা সন্তানকে স্তন্যপান করান সেইসমস্ত মায়েদের জিনসেং এড়িয়ে চলা ভালো।

  • হার্ট কন্ডিশন

জিনসেং হার্টরেট এবং ব্লাড প্রেসারকে প্রভাবিত করতে পারে। যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে তারা এটি ব্যবহারের আগে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

  • ডায়াবেটিস

জিনসেং ব্লাড সুগারের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে যারা ব্লাড সুগারের ওষুধ খাচ্ছেন তাদের।

  • অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সময় সমস্যা

জিনসেং যেহেতু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, তাই অস্থায়ীভাবে ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতা হ্রাস করার জন্য প্রদত্ত ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে।

  • রক্তপাতের সমস্যা
(ads2)

জিনসেং রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তাই যদি রক্তক্ষরণের সময় এর ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

জিনসেং এর উপকারিতা পেতে সতর্কভাবে এর ব্যবহার করুন। জিনসেংয়ের গুণ বর্ণনা করে বলা হয় যে এটি “Adaptogen” অর্থাৎ এটি সব পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে। এটি ব্যবহারে মানুষের দেহে শারীরিক শক্তি-সামর্থ্য, মানসিক ক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী :

জিনসেং কি ক্ষতিকারক হতে পারে ?

জিনসেং এর থেকে যে সমস্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় সেহেতু সাধারণত হালকা। এর থেকে অনিদ্রা, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, পেট খারাপ ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে তেমন মারাত্মক কোনও সমস্যা হয় না।

আমি কী প্রায়শই এবং উচ্চ মাত্রা জিনসেং নিতে পারি ?

জিনসেং ব্যবহারের অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয় হল, কম মাত্রায় এর ব্যবহার করলে এর উপকারিতা সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি একটি পরীক্ষায় ডোজ অনুসারে এর ফলাফলের বিভিন্নতা দেখা গেছে। ৪০০ মিলিগ্রামের তুলনায় ২০০ মিলিগ্রাম অনেক বেশি কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত।

জিনসেংয়ের প্রভাব অনুভব করতে কতক্ষণ সময় লাগে?

এর কাজ শুরু হতে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না। তবে আপনি ১২-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রভাব অনুভব নাও করতে পারেন। আপনার শারীরিক অবস্থা এবং ডোজের উপর এর প্রভাব নির্ভর করছে।

প্রতিদিন জিনসেং চা খাওয়া কি ঠিক?

সাধারণত জিনসেং এবং গ্রিণ টি পরিমিতভাবে খাওয়া নিরাপদ। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে নয়। তবে বাচ্চাদের, গর্ভবতী মহিলা এবং যাদের ডায়াবেটিস ডায়াবেটিস অথবা হাই ব্লাড প্রেসার রয়েছে তাদের অবশ্যই এটি এড়িয়ে চলা উচিৎ।

জিনসেং কী লিভারের জন্য খারাপ?

জিনসেংয়ের নানা উপকারিতা রয়েছে। এটি সিরোসিস, ফ্যাটি লিভার এবং দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিসের মতো সাধারণ লিভারের রোগের চিকিৎসায় উপকারী।

আমি কি রাতে জিনসেং গ্রহণ করতে পারি?

এটি অনিদ্রার কারণ হতে পারে। নিয়মিত রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে জিনসেং খেলে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যা এড়াতে ঘুমাতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে গ্রহণ করুন।

জিনসেং এত মূল্যবান কেন?

জিনসেং চাষের জন্য দরকার সঠিক পরিবেশ। অনুকূল পরিবেশ ছাড়া তা সম্ভব নয়, সেই জন্য কেবলমাত্র কিছু জায়গায় এর চাষ হয় এবং দামও বেশি হয়।

জিনসেং কী লিভারের জন্য খারাপ?

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জিনসেং উপকারী, এটি ব্লাড সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু ক্যাফাইনের সঙ্গে একসঙ্গে নিলে উচ্চরক্তচাপের কারণ হতে পারে, যা সরাসরি কিডনির ক্ষতি করতে পারে।

জিনসেং কি হার্টের জন্য খারাপ?

জিনসেংয়ের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হার্টের সমস্যা। হার্টরেট বাড়াতে পারে, পাশাপাশি রক্তচাপ বাড়িয়ে বা কমিয়ে সমস্যা ডেকে আনতে পারে।

সাধারণ জিনসেং এবং কোরিয়ান জিনসেংয়ের মধ্যে পার্থক্য কী?

সাধারণ জিনসেংয়ের তুলনায় কোরিয়ান জিনসেংয়ের আরও শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে।

জিনসেং মূলত দুই ধরণের। জিনসেং আমেরিকান ও এশিয়ান। এর মধ্যে এশিয়ান জিনসেং অপেক্ষাকৃত বেশি কার্যকরী। এই দুই ধরণের জিনসেং কে বলা হয় প্যানাক্স জিনসেং। জিনসেং সাদা (খোসা ছাড়ানো) ও লাল (খোসা সমেত) এই দুই রকম রূপে পাওয়া যায়। খোসা সমেত অবস্থায় এটি অধিক কার্যকরী। এদের মধ্যে থাকা জিনসেনোনোসাইড নামক একটি উপাদান এর কার্যক্ষমতার জন্য দায়ী। সাইবেরিয়ান জিনসেং নামে আরেক ধরণের গাছ আছে, যা জিনসেং বলে ভূল করা হলেও তা আসলে প্রকৃত জিনসেং না।
১.দ্রুত বীর্যস্খলন নিরাময়ে
যদিও কাচা জিনসেং এর মূল এই রোগে কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানা যায় না তবে জিনসেং এর তৈরী একটি ক্রীম (ss cream) পুরুষদের দ্রুত বীর্যস্খলন রোধে বিশ্বব্যাপী ব্যবহার হয়ে আসছে যা মিলনের একঘন্টা আগে লিঙ্গে লাগিয়ে রেখে মিলনের আগে ধুয়ে ফেলতে হয়।

Journal of Urology তে ২০০০ সনে প্রকাশিত একটি গবেষনা অনুযায়ী এটি বীর্যস্খলনের সময়কাল কার্যকরী ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ভাবে বাড়ায়।
২.কগনেটিভ ফাংশন
কগনেটিভ ফাংশন বলতে বুঝায় বিভিন্ন মানসিক ক্ষমতা যেমন মনযোগ, স্মৃতিশক্তি, কথা শোনার সাথে সাথে বুঝতে পারার ক্ষমতা,কল্পনাশক্তি, শেখার ক্ষমতা, বিচারবুদ্ধি, চিন্তা শক্তি ও সমস্যা সমাধান করে কোন একটা সিদ্ধান্তে পৌছানোর ক্ষমতা। সোজা ভাষায় বলতে গেলে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি। জিনসেং স্নায়ুতন্তের উপর সরাসরি কাজ করে মানসিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

(ads1)
৩.কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে
Pharmacological Research এ ২০০৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষনা অনুযায়ী, দিনে ৬ মিগ্রা হারে ৮ সপ্তাহ জিনসেং গ্রহণ খারাপ কোলেস্টেরল যেমন- total cholesterol (TC), triglyceride (TG) ও low density lipoprotein (LDL) এর মাত্রা কমাতে ও ভালো কোলেস্টেরল (High Density Lipoprotein বা HDL) এর মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে।
৪.ফুসফুসের রোগ
Chronic Obstructive Pulmonary Disease(COPD) হচ্ছে ফুসফুসের অন্যতম কমন রোগ। এই রোগীদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুকে কফ থাকে ও কারো কারো ফুসফুসের ক্ষয় ঘটে। Archive of Chest Disease এ ২০০২ সনে প্রকাশিত ৯২ জন রোগীর উপর করা গবেষনা অনুযায়ী ১০০মিগ্রা ডোজে ৩ মাস জিনসেং গ্রহণে সার্বিক ভাবে COPD এর অবস্থার উন্নতি হয় বলে প্রমাণিত হয়েছে।
৫.বলিরেখা ও ফাটা দাগ দূর করে
জিনসেং বিভিন্ন এন্টি-এজিং ক্রীম ও স্ট্রেচ মার্ক ক্রীম এ ব্যবহৃত হয়। এইসব ক্রীম ত্বকের কোলাজেন এর উপর কাজ করে ত্বকের বলিরেখা প্রতিরোধ করে ও গর্ভবতী নারীদের পেটের ত্বক স্ফীতির কারণে তৈরী ফাটা দাগ নিরসন করে। তবে এটির জন্য জিনসেং এর ভূমিকা কতটুকু ও ক্রীমে থাকা অন্যান্য উপাদানের ভূমিকা কতটুকু তা জানা যায়নি।
৬.ক্যান্সার রোগীদের দুর্বলতা কাটায়
জিনসেং ক্যান্সার নিরাময় করতে না পারলেও আমেরিকার ম্যায়ো ক্লিনিক ক্যান্সার সেন্টারের গবেষকরা বলছেন, ক্যান্সারে ভুগছেন এমন রোগীদের দুর্বলতা কাটাতে জিনসেং সহায়ক। ৩৪০ রোগী নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, ৮ সপ্তাহ ধরে উচ্চমাত্রার জিনসেং ক্যাপসুল সেবন করেছেন এমন রোগীদের দুর্বলতা অন্যান্য পদ্ধতির চিকিত্‍সা গ্রহণকারীদের তুলনায় অনেক কমেছে।
৭.আরো কিছু রোগ
মেয়েলি হরমোন বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বৃদ্ধি ও শক্তি বর্ধক এনার্জি ড্রিংক হিসেবে জিনসেং দারুন কার্যকরী। জিনসেং রক্ত তরল করে স্ট্রোক প্রতিরোধ করে। আরো কয়েকটি রোগ নিরসনে জিনসেং ভূমিকা রাখে বলে লোকজ ব্যবহার হতে জানা গিয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই রোগ গুলোর ক্ষেত্রে গবেষনা করে জিনসেং এর কার্যকরীতা অস্বীকারও করেন নি আবার নিশ্চিত ভাবে মেনেও নেননি। এইসব রোগের মধ্যে আছে, সরদি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ক্যান্সার (পাকস্থলি, ফুসফুস, যকৃত, ত্বক, ডিম্বাশয়), রক্তশূণ্যতা, বিষন্নতা, জল আসা, হজমে সমস্যা ইত্যাদি।

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ও

Post a Comment

Previous Post Next Post

POST ADS1

POST ADS 2