মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (১২০৪-১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দ) (বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনা

অন্যান

Health City Life এর সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন

 

মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (১২০৪-১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দ) (বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনা

প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ৩২৬-১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ) (প্রাচীন বাংলার গুরুত্বপূর্ণ রাজবংশ ও শাসন ব্যবস্থা)

মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস

(১২০৪ খ্রিঃ১৭৫৭ খ্রিঃ)

বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনাকালকে বাংলায় মধ্যযুগের শুরু বলা হয়। ইতিহাসে এক যুগ থেকে অন্য যুগে প্রবেশ করতে হলে বিশেষ কতকগুলো যুগান্তকারী পরিবর্তন দরকার। মুসলমানদের বঙ্গ বিজয়ের ফলে বঙ্গের রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই শুধু পরিবর্তন আসেনি। এর ফলে বঙ্গের সমাজ, ধর্ম, অর্থনীতি, ভাষা সাহিত্য, শিল্পকলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশবাসীর জীবনে বৈপবক পরিবর্তন আসে

বাংলায়মুসলমান শাসনের সূচনা

ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি

তেরো শতকের শুরুতে তুর্কী বীর ইখতিয়ারউদ্দীনমুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলার উত্তর উত্তরপশ্চিমাংশে সেন শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন। তিনি আফগানিস্তানের গরমশির বা আধুনিক দশতমার্গের অধিবাসী ছিলেন। ইতিহাসে তিনি বখতিয়ার খলজি নামেই বেশি পরিচিত। তাঁর বংশ পরিচয় সম্বন্ধে তেমন কিছু জানা যায় না। তিনি ছিলেন জাতিতে তুর্কী, বংশে খলজি এবং বৃত্তিতে ভাগ্যান্বেষী সৈনিক

বখতিয়ার খলজি স্বীয় কর্মশক্তিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ১১৯৫ খ্রিস্টাব্দেতিনি নিজ জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে জীবিকার অন্বেষণে গজনীতে আসেন। এখানে তিনি শিহাবউদ্দিন ঘোরীর সৈন্য বিভাগে চাকরি প্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হন। খাটো, লম্বা হাত কুৎসিত চেহারার জন্য নিশ্চয়ই বখতিয়ার সেনাধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যর্থ হন। এরূপ শারীরিক বৈশিষ্ট্য তুর্কীদের নিকট অমঙ্গল বলে বিবেচিত হতো। গজনীতে ব্যর্থ হয়ে বখতিয়ার দিলতে সুলতান কুতুবউদ্দীন আইবেকেরী দরবারে উপসিথত হন। এবারও তিনি চাকরি পেতে ব্যর্থ হন। এরপর তিনি বদাউনে যান। সেখানকার শাসনকর্তা মালিক হিজবরউদ্দিন তাকে মাসিক বেতনে সৈন্য বিভাগে নিযুক্ত করেন। কিনু্ত উচ্চাভিলাষী বখতিয়ার ধরনের সামান্য বেতনভোগী সৈনিকের পদে সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি। অল্পকাল পর তিনি বদাউন ত্যাগ করে অযোধ্যা যান। সেখানকার শাসনকর্তা হুসামউদ্দীনের অধীনে তিনি পর্যবেনের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। বখতিয়ারের সাহস বুদ্ধিমত্তায় সন্তুষ্ট হয়ে হুসামউদ্দীন তাকে বর্তমান মির্জাপুর জেলার দক্ষিণপূর্ব কোণে ভাগবত ভিউলি নামক দুটি পরগনার জায়গীর দান করেন। এখানে বখতিয়ার তাঁর ভবিষ্যৎ উন্নতির উৎস খুঁজে পান। ভাগবত ভিউলি তার শক্তিকেন্দ্র হয়ে উঠে

সব এ্যাসাইনমেন্টর উত্তর লিংক 

Health City Life এর সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন

More Assignment Links==>>Click

বখতিয়ার অল্পসংখ্যক সৈন্য সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তীক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হিন্দু রাজ্য আক্রমণ লুণ্ঠন করতে শুরু করেন। সময়ে তার বীরত্বের কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ভাগ্যান্বেষী মুসলমান তার সৈন্যদলে যোগদান করে। ফলে বখতিয়ারের সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এভাবে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আক্রমণ চালিয়ে তিনি দক্ষিণ বিহারে এক প্রাচীর ঘেরা দুর্গের মতো ানে আসেন এবং আক্রমণ করেন। প্রতিপক্ষ কোনো বাঁধাই দিল না। দূর্গ জয়ের পর তিনি দেখলেন যে দূর্গের অধিবাসীরা সকলেই মুন্ডিত মস্তক এবং দূর্গটি বইপত্রে ভরা। জিজ্ঞাসা করে তিনি জানতে পারলেন যে, তিনি এক বৌদ্ধ বিহার জয় করেছেন। এটি ছিল ওদন্দ বিহার বা ওদন্তপুরী বিহার। সময় হতেই মুসলমানেরা ানের নাম দিল বিহার। আজ পর্যন্ত তা বিহার নামে পরিচিত

বিহার বিজয়ের পর বখতিয়ার অনেক ধনরত্নসহ দিল সুলতান কুতুবউদ্দীন আইবকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সুলতানী কর্তৃক সম্মানিত হয়ে তিনি বিহার ফিরে আসেন। অধিক সৈন্য সংগ্রহ করে তিনি পরের বছর নবদ্বীপ বা নদিয়া আক্রমণ করেন। সময় বাংলার রাজা লক্ষণ সেন নদিয়ায় অবসান করছিলেন। গৌড় ছিল তাঁর রাজধানী, আর নদিয়া ছিল তাঁর দ্বিতীয় রাজধানী। বখতিয়ার কর্তৃক বিহার জয়ের পর সেন সাম্রাজ্যে গভীর ভীতি বিদ্যমান ছিল। দৈবজ্ঞ, পণ্ডিত ব্রাহ্মণগণ রাজা লক্ষণ সেনকে রাজধানী ত্যাগ করতে পরামর্শ দেন। তাদের শাস্ত্রে তুর্কী সেনা কর্তৃক বঙ্গ জয়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিতে আছে। এছাড়া বিজয়ীর যে বর্ণনা শাস্ত্রে আছে তার সঙ্গে বখতিয়ারের দেহের বর্ণনা একেবারে মিলে যায়। কিন্তু তবুও রাজা লক্ষণ সেন নদিয়া ত্যাগ করেননি। বিহার হতে বাংলায় প্রবেশ করতে হলে তেলিয়াগড় শিকড়িগড় এই দুই গিরিপথ দিয়ে আসতে হতো। গিরিপথ দুটো ছিল সুরক্ষিত। তিনি প্রচলিত পথে অগ্রসর হলেন না। কিন্তু অরণ্যময় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়াতে বখতিয়ারের সৈন্যদল খণ্ড খণ্ডভাবে অগ্রসর হয়। শত্রুপক্ষের দৃষ্টি এড়িয়ে বখতিয়ার খলজি যখন নদীয়ার দ্বারপ্রান্তেউপসি হলেন, তখন তাঁর সঙ্গে ছিল মাত্র ১৭ কিংবা ১৮ জন অশ্বারোহী সৈনিক। এত অল্পসংখ্যক সৈন্য নিয়ে বখতিয়ার খলজির পক্ষে বঙ্গ বিজয় কী করে সম্ভব হলো? কথিত আছে, তিনি এত ক্ষিপ্র গতিতে পথ অতিক্রম করেছিলেন যে, মাত্র ১৭/১৮ জন সৈনিক তাঁকে অনুসরণ করতে পেরেছিল। আর মূল সেনাবাহিনীর বাকি অংশ তাঁর পশ্চাতেই ছিল

সব এ্যাসাইনমেন্টর উত্তর লিংক 

More Assignment Links==>>Click

তখন দুপুর। রাজা লক্ষণ সেন মধ্যাহ্নভোজেব্যস্ত; প্রাসাদরক্ষীরা তখন আরাম আয়েস করছে; নাগরিকগণও নিজেদের প্রাত্যহিক কাজে ব্যস্ত। বখতিয়ার খলজি বণিকের ছদ্মবেশে নগরীর দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছান। রাজা লক্ষণ সেন তাদেরকে অশ্ব ব্যবসায়ী মনে করে নগরীর অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি দেন। কিন্তু ক্ষুদ্রদল রাজপ্রাসাদের সম্মুখে এসে হঠাৎ তরবারি উন্মুক্ত করে প্রাসাদ রক্ষীদের হত্যা করে। অকস্মাৎ আক্রমণে চারদিকে হৈ চৈ পড়ে যায়। প্রাসাদ অরক্ষিত রেখে সকলে প্রাণভয়ে পালিয়ে যায়। ইতিমধ্যে বখতিয়ারের দ্বিতীয় দল নগরের মধ্যে এবং তৃতীয় দল তোরণদ্বারে এসে উপসি হয়। সমস্ত নগরী তখন প্রায় অবরুদ্ধ। নাগরিকগণ ভীত সন্ত্রস্ত। অবসায় রাজা লক্ষণ সেন হতাশ হয়ে পড়েন। শত্রুর আক্রমণ হতে আত্মরক্ষার কোনো উপায় নাই দেখে তিনি পিছনের দরজা দিয়ে সপরিবারে খালি পায়ে গোপনে নৌকাযোগে পূর্ববঙ্গে মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে আশ্রয় গ্রহণ করেন। অল্পকালের মধ্যে বখতিয়ার খলজীর পশ্চাৎগামী অবশিষ্ট সৈন্যদলও এসে উপসি হলো। বিনা বাধায় নদিয়া পার্শ্ববর্তী অঞ্চল মুসলমানদের অধিকারে আসে। বখতিয়ার খলজির নদিয়া জয়ের সঠিক তারিখ সম্বন্ধে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। তবে বর্তমানে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দই নদিয়া জয়ের তারিখ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে

অতঃপর বখতিয়ার নদিয়া ত্যাগ করে লক্ষণাবতীর (গৌড়) দিকে অগ্রসর হন। তিনি লক্ষণাবতী অধিকার করে সেখানেই রাজধানী াপন করেন। লক্ষণাবতীই মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়। গৌড় জয়ের পর বখতিয়ার আরও পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বরেন্দ্র বা উত্তর বাংলায় নিজ অধিকার বিস্তার করেন। এখানে উলে্য যে, বখতিয়ারখ খলজি নদীয়া গৌড় বিজয়ের পর একটি স্বাধীন রাজ্যের অধিপতি হলেও তিনি সমগ্র বাংলায় আধিপত্য বিস্তার করতে পারেননি। পূর্ববঙ্গে লক্ষণ সেনের অধিকার অক্ষুণ্ন ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর বংশধরেরা আরও কিছুদিন পূর্ব বঙ্গ শাসন করেছিলেন

গৌড় বা লখনৌতি বিজয়ের দুই বছর পর বখতিয়ার খলজি তিব্বত অভিযানে বের হন। তিব্বত অভিযানই ছিল তাঁর জীবনের শেষ সমর অভিযান। কিন্তু তাঁর অভিযান ব্যর্থ হলে তিনি দেবকোটে ফিরে আসেন। এখানে তিনি অসুসহয়ে পড়লে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দেতিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন। অনুমান করা হয় আলী মর্দান নামে একজন আমীর তাকে হত্যা করেছিল

বাংলায় মুসলমান শাসনের ইতিহাসে ইখতিয়ারউদ্দীনমুহম্মদ বিনবখতিয়ার খলজির নাম সর্বপ্রথম উলেযোগ্য। তাঁরখ প্রচেষ্টার ফলেই এদেশে প্রথম মুসলমানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। শাসন প্রায় সাড়ে পাঁচশত বছরের অধিককাল ায়ী হয়েছিল (১২০১১৭৫৭ খ্রি🙂 রাজ্য জয় করেই বখতিয়ার খলজি ক্ষান্ত ছিলেন না। বিজিত অঞ্চলে তাঁর শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্যও তিনি যথাযথ ব্যবস গ্রহণ করেছিলেন। ইসলাম ধর্ম মুসলমান সংস্কৃতি বিকাশের জন্য তাঁর ভূমিকা ছিল উলেযোগ্য। তাঁর শাসনকালে বহু মাদ্রাসা, মক্তব, মসজিদ ইত্যাদি নির্মিত হয়েছিল

বাংলায়তুর্কী শাসনের ইতিহাস

বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন বখতিয়ার খলজি। পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। যুগের শাসনকর্তাদেরপুরোপুরি স্বাধীন বলা যাবে না। এঁদের কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহযোদ্ধা খলজী মালিক। আবার কেউ কেউ তুর্কী বংশের শাসক। শাসকদের সকলেই দিলিসুলতানদের অধীনে বাংলারর শাসনকর্তা হয়ে এসেছিলেন। পরবর্তীকালে অনেক শাসনকর্তাই দিলিবিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন।র তবে এদের বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। দিলিআক্রমণের মুখে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। মুসলিম শাসনেরর এযুগ ছিল বিদ্রোহবিশৃঙ্খলায় পূর্ণ। তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের নাম দিয়েছিলেনবুলগাকপুর এর অর্থবিদ্রোহের নগরী

বখতিয়ার খলজির মৃত্যুর পর তাঁর সহযোদ্ধাদের মধ্যে শুরু হয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। তাঁর সহযোদ্ধা তিনজন খলজী মালিকের নাম জানা যায়। এরা হচ্ছেনমুহম্মদ শিরণ খলজি, আলী মর্দান খলজী এবং হুসামউদ্দীন ইওয়াজ খলজি। অনেকেরই ধারণা ছিল আলী মর্দান খলজি বখতিয়ার খলজির হত্যাকারী। কারণে খলজি আমীর সৈন্যরা তাঁদের নেতা নির্বাচিত করেন মুহম্মদ শিরন খলজিকে। তিনি কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। আলী মদার্ন খলজিকে বন্দী করা হয়। পরে আলী মদার্ন পালিয়ে যান এবং দিলিসুলতান কুবুতউদ্দিনেরসহযোগিতা লাভ করেন। শিরন খলজিরর শাসনকাল মাত্র একবছর ায়ী ছিল। এরপর ১২০৮ খ্রিস্টাব্দে দেবকোটের শাসনকর্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন হুসামউদ্দিন ইওয়াজ খলজি। দিলিসহযোগিতায় দুই বছর পর ফিরে আসেন আলী মর্দান খলজি। ইওয়াজ খলজির স্বেচ্ছায় তাঁর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। আলী মর্দান খলজি ১২১০ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং নিজের নাম নেন আলাউদ্দিন আলী মদার্ন খলজী। খুব কঠোর শাসক ছিলেন তিনি। তাই তাঁর বিরুদ্ধে ক্রমে বিক্ষোভ বাড়তে থাকে। খলজি মালিকরা এক জোট হয়ে বিদ্রোহ করেন। এদের হাতে নিহত হন আলী মদার্ন খলজি। ইওয়াজ খলজি দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসেন। তিনি পর্যায়ে গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজি নাম নিয়ে স্বাধীন সুলতান হিসাবে বাংলা শাসন করেন। ১২১২ থেকে ১২২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর তিনি বাংলার সুলতান ছিলেন

সুলতানগিয়াসউদ্দীন ইওজ খলজি

সুলতান গিয়াসউদ্দীন ইওজ খলজি নিঃসন্দেহে খলজি মালিকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন। বখতিয়ার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাংলার মুসলমান রাজ্যকে শক্তিশালী সুদৃঢ় করতে তিনি সচেষ্ট হয়েছিলেন। শাসনকার্যের সুবিধার জন্য তিনি রাজধানী দেবকোট হতে গৌড় বা লখনৌতিতে ানানরিত করেন। রাজধানীর প্রতিরক্ষা ব্যবস সুদৃঢ় করার জন্য বসনকোট নাম ানে একটি দুর্গ নির্মাণ করা হয়। লখনৌতি নদী তীরে অবসি হওয়ায় ব্যবসাবাণিজ্যের সুবিধা ছিল। তাছাড়া, ইওজ খলজি বুঝতে পেরেছিলেন যে শক্তিশালী নৌবাহিনী ছাড়া শুধু অশ্বারোহী বাহিনীর পক্ষে নদীমাতৃক বাংলায় রাজ্য সমপ্রসারণ সম্ভব হবে না। বাংলার শাসন বজায় রাখতে হলেও নৌবাহিনীর প্রয়োজন ছিল। তাই বলা যায় যে, বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে ইওজ খলজিই নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেছিলেন। রাজধানীর নিরাপত্তার জন্য এর তিন পার্শ্বে গভীর প্রশসপরিখা নির্মাণ করা হয়। বার্ষিক বন্যার হাত হতে লখনৌতি পার্শ্ববর্তীঅঞ্চলকে রক্ষা করার জন্য তিনি বহু খাল খনন সেতু নির্মাণ করেন। তিনি রাস নির্মাণ করে সৈন্য পণ্য চলাচলের সুবন্দোবসকরেন। রাজপথ নির্মাণের ফলে রাজ্য শাসন ব্যবসাবাণিজ্যেরই শুধু সুবিধা হয়নি, ইহা দেশের লোকের নিকট আশীর্বাদস্বরূপও ছিল। কারণ, ইহা বার্ষিক বন্যার কবল হতে তাদের গৃহ শস্যক্ষেত্র রক্ষা করত

উপরোক্ত কার্যাবলী গিয়াসউদ্দীন ইওজ খলজিকে একজন সুশাসক হিসেবে প্রতিপন্ন করে। তিনি রাজ্য বিসারের দিকেও মনোনিবেশ করেন। পার্শ্ববর্তীহিন্দু রাজারা, যেমন কামরূপ, উড়িষ্যা, বঙ্গ (দক্ষিণপূর্ব বাংলা) এবং ত্রিহুতের রাজারা তাঁর নিকট কর পাঠাতে বাধ্য হন। লখনৌতির দক্ষিণ সীমানে লাখনোর শহর শত্রুর কবলে পড়লেও পরে তিনি তা পুনরুদ্ধারে সক্ষম হন। আব্বাসীয় খলিফা আলনাসিরের নিকট হতে সুলতান গিয়াসউদ্দীন ইওজ খলজি স্বীকৃতিপত্র লাভ করেছিলেন। তখন কোনো মুসলিম শাসক খলিফার স্বীকৃতিপত্র বা ফরমান না পেলে ইসলামে তাকে বৈধ শাসক বলে স্বীকার করা হতো না

দিল সুলতান ইলতুৎমিশ গিয়াসউদ্দীন ইওজ খলজির অধীনে লখনৌতির মুসলমান রাজ্যের প্রতিপত্তি বিসার কখনওী ভালো চোখে দেখেননি। কিন্তু রাজত্বের প্রারম্ভে আশু বিপদ সমস্যার সমাধান করার পূর্বে বাংলার দিকে নজর দেয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। ১২২৪ খ্রিস্টাব্দেবিপদসমূহ দূর হলে সুলতান ইলতুৎমিশ বাংলার দিকে দৃষ্টি দেন। ১২২৫ খ্রিস্টাব্দে মুঙ্গের কিংবা শকর্‌ীগলি গিরিপর্বতের নিকট উভয় সৈন্যদল মুখোমুখি হলে ইওজ খলজি সন্ধির প্রসাব করেন। উভয়পক্ষে এক সন্ধি হয়। ইলতুৎমিশ খুশি হয়ে মালিক আলাউদ্দীন জানিকে বিহারের শাসনকর্তা নিযুক্ত করে এবং ইওজ খলজিকে বঙ্গের শাসক পদে বহাল রেখে দিলতে ফিরে যান। কিনসুলতান দিলতে প্রত্যাবর্তনের সঙ্গেীী সঙ্গে ইওজ খলজি পুনরায় স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বিহার আক্রমণ করে সেখানকার শাসনকর্তা আলাউদ্দীন জানীকে বিতাড়ন করা হয়

সব এ্যাসাইনমেন্টর উত্তর লিংক 

More Assignment Links==>>Click

ইওজ খলজি লখনৌতি ফিরে এসেই বুঝতে পেরেছিলেন যে ইলতুৎমিশ আবার বাংলা আক্রমণ করবেন। তিনি প্রায় এক বছরকাল প্রসতি নিয়ে রাজধানীতে অবসান করেন এবং পাল্টা আক্রমণের জন্য অপেক্ষা করেন। সময় দিলরী রাজকীয় বাহিনী অযোধ্যার বিদ্রোহ দমনে ব্যসহয়ে পড়ে। ইওজ খলজি মনে করলেন অবসায় দিলবাহিনীরী পক্ষে বাংলা আক্রমণ করা সম্ভব হবে না। তাই তিনি অবসরে পূর্ববঙ্গ আক্রমণ করার মনসকরেন। রাজধানী লক্ষনৌতি একপ্রকার অরক্ষিত অবসায় ছিল। এদিকে সুলতান ইলতুৎমিশ পুত্র নাসিরউদ্দীন মাহমুদকে লখনৌতি আক্রমণের নির্দেশ দেন। ইওজ খলজির অনুপসিতির সুযোগ নিয়ে নাসিরউদ্দীন মাহমুদ বঙ্গের রাজধানী লখনৌতি আক্রমণ করেন। সংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গে ইওজ খলজি অতি অল্প সংখ্যক সৈন্য সঙ্গে নিয়ে রাজধানীতে তাড়াতাড়ি ফিরে আসেন। শত্রুবাহিনী পূর্বেই তাঁর বসনকোট দুর্গ অধিকার করেছিল। যুদ্ধে ইওজ খলজি পরাজিত বন্দী হন। পরে তাঁকে হত্যা করা হয়। ইওজ খলজির পরাজয় পতনের ফলে বঙ্গদেশ পুরোপুরিভাবেদিলরী সুলতানের অধিকারে আসে। নাসিরউদ্দীন মাহমুদ বঙ্গদের শাসনকর্তা নিযুক্ত হলেন

ইওজ খলজি শিল্প সাহিত্যের একজন পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁরই পৃষ্ঠপোষকতায়গৌড়ের জুমা মসজিদ এবং আরও কয়েকটি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। তাঁর আমলে মধ্য এশিয়া হতে বহু মুসলিম সুফী সৈয়দ তাঁর দরবারে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। সমসসুফী সুধীগণ বঙ্গদেশে ইসলাম প্রচারে যথেষ্ট সহায়তা করেন। তাঁদের আগমন ইওজ খলজির পৃষ্ঠপোষকতায় লখনৌতি মুসলিম শিক্ষা সংস্কৃতির কেন্দ্রে পরিণত হয়

ইওজ খলজির মৃত্যুর পর থেকে ১২৮৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যনষাট বছর বাংলা দিল মুসলমান শাসকদের একটি প্রদেশেী পরিগণিত হয়। সময় পনের জন শাসনকর্তা বাংলা শাসন করেন। এঁদের দশ জন ছিলেন দাস। দাসদেরমামলুকবলা হয়। কারণে ষাট বছরের বাংলার শাসনকে অনেকে দাস শাসন বা মামলুক শাসন বলে অভিহিত করে। কিন্তু যুগের পনের জন শাসকের সকলেই তুর্কী বংশের ছিলেন। কারণে সময়কালকে তুর্কী যুগ বলা সবচেয়ে যথার্থ হতে পারে। তুর্কী শাসকদের সময়ে দিলতে অভ্যনরীণ গোলযোগ চলছিল। সুতরাং, বাংলার মতো দূরবর্তী প্রদেশেরী দিকে সুলতানদের মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ ছিলনা। পরিণামে বাংলার তুর্কী শাসকরা অনেকটা স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনা করতেন। প্রথম তুর্কী শাসনকর্তা ছিলেন নাসিরউদ্দীন মাহমুদ। তিনি ছিলেন দিল সুলতান ইলতুৎমিশেরী পুত্র। ১২২৯ খ্রিস্টাব্দেনাসিরউদ্দীন মাহমুদ মৃত্যুবরণ করলে অল্প সময়ের জন্য বাংলায় ক্ষমতায় আসেন দওলত শাহবিনমওদুদ। ১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান ইলতুৎমিশের মৃত্যু হলে দিলতে গোলযোগ দেখা যায়। সুযোগে আওর খানী আইবক লখনৌতির ক্ষমতা দখল করে নেন। কিন্তু অল্পকাল পরেই বিহারের শাসনকর্তা তুঘরল তুঘান খানের হাতে তাঁর পরাজয় ঘটে। তুঘান খান ১২৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন বছর বাংলার শাসনকর্তা ছিলেন। এরপর মাত্র বছর লখনৌতির ক্ষমতায় ছিলেন ওমর খান

১২৪৭ থেকে ১২৫১ খ্রিস্টাব্দ পর্যনবাংলা শাসন করেন জালালউদ্দিন মাসুদ জানি। তিনি লখনৌতিতে শানিফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। পরবর্তী শাসক ছিলেন অযোধ্যার শাসনকর্তা মালিক ইখতিয়ার উদ্দিন ইউজবক। সীমানঅঞ্চলে তিনি রাজ্যসীমার বিসার ঘটান। যথেষ্ট শক্তি সঞ্চয় করার পর মাসুদ জানি ১২৫৫ খিস্টাব্দেমুঘিসউদ্দিনউপাধি ধারণ করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি ১২৫৭ খ্রিস্টাব্দেনিহত হন। পরবর্তী দুই বছর লখনৌতি স্বাধীনভাবে শাসন করেন মালিক উজ্জউদ্দিন ইউজবক। পরে ১২৬৯ খ্রিস্টাব্দে কারা প্রদেশের শাসনকর্তা তাজউদ্দিন আরসালান খান লখনৌতির সিংহাসনে বসেন। আরসালান খানের পর বাংলার শাসনকর্তা হন তাতার খান। তিনি দিল প্রতি আনুগত্যী প্রকাশ করলেও কয়েক বছরের মধ্যে দিল সাথে বাংলার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। তাতার খানের পর অল্পদিনের জন্যী বাংলার ক্ষমতার বসেছিলেন শের খান

পরবর্তী শাসনকর্তা তুঘরিল ছিলেন মামলুক তুর্কীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।উত্তর এবং পশ্চিম বাংলা ছাড়াও ঢাকা এবং ফরিদপুরের বেশ কিছু অঞ্চল তিনি অধিকারে আনেন। সোনারগাঁওয়ের নিকট তিনি নারকিলনামে এক দুর্গ তৈরিা করেছিলেন। সাধারণ মানুষের কাছে দুর্গটি তুঘরিলের কিলনামে পরিচিত ছিল। তুঘরিলমুঘিসউদ্দিনউপাধি নিয়ো স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ফলে দিল সুলতান বলবন প্রচণ্ড আক্রমণ হানেন তুঘরিলের উপর। ১২৮১ খ্রিস্টাব্দেী বলবনের হাতে পরাজিত নিহত হন তুঘরিল। বাংলার শাসনকর্তারা বিদ্রোহ করে বলে এবার বলবন তাঁর ছেলে বুঘরা খানকে বাংলার গভর্নর হিসাবে নিয়োগ করেন। পরবর্তী ছয় বছর বাংলা দিল অধীনে ছিল। ১২৮৭ খ্রিস্টাব্দেী বলবনের মৃত্যুর পর বুঘরা খাননাসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহনাম নিয়ে স্বাধীন সুলতান হিসাবে বাংলা শাসন করতে থাকেন। সময় দিল সুলতান ছিলেন বুঘরা খানের ছেলে কায়কোবাদ

কায়কোবাদের মৃত্যু সংবাদে বুঘরা খানের মন ভেঙ্গে যায়। তিনি তাঁর অন্য পুত্র রুকনউদ্দিন কায়কাউসকে বাংলার সিংহাসনে বসিয়ে নিজে সরে যান কায়কাউস (১২৯১১৩০০ খ্রিঃ) দশ বছর বাংলার শাসক ছিলেন। তাঁর কোনো ছেলে না থাকায় পরবর্তী শাসনকর্তা হন মালিক ফিরুজ ইতগীন। তিনি সুলতান হিসেবে নতুন নাম ধারণ করেনসুলতান শামসুদ্দিন ফিরুজ শাহ ফিরুজ শাহের মৃত্যু হলে পুত্র গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহ বাংলার সিংহাসনে বসেন। অল্পকাল পরেই দিল সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের হাতে তিনি পরাজিত বন্দী হন। পরে ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দেবাহাদুর শাহকে মুক্তি দিয়ে সোনারগাঁওয়ে পাঠান হয়। সেখানে তিনি বাহরাম খানের সাথে যুগ্মভাবে শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। লখনৌতির গভর্নর হন নাসিরউদ্দিন ইব্রাহিম কদর খান। ইজ্জউদ্দিনকে নিয়োগ করা হয় সাতগাঁওয়ের গভর্নরের পদে। ১৩২৮ খ্রিষ্টাব্দে গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর বিদ্রোহ করলে তিনি বাহরাম খানের হাতে নিহত হন। এরপর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যনবাংলা দিল অধীনে ছিল

 

সব এ্যাসাইনমেন্টর উত্তর লিংক 

More Assignment Links==>>Click

Health City Life এর সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.