ধর্ষণের জন্য দায়ী আমাদের সামাজিক অবক্ষয়

অন্যান

 

ধর্ষণের জন্য দায়ী আমাদের সামাজিক অবক্ষয়

অনেকদিন ধরে ফেসবুক , সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং অন্যান্য পত্রিকায় অনেক লেখা হয়েছে|

ধর্ষণের প্রধান কারণ কি:
“ধর্ষণের অনেকগুলো কারণ আছে এর সর্বোপরি একটি সুনির্দিষ্ট কারণ হলো আমাদের সামাজিক শিক্ষার অবক্ষয়/আমাদের অপরিপূর্ণ সামাজিক শিক্ষা , অপরিপূর্ণ ধর্মীয় শিক্ষা”
এখন কিভাবে আমাদের সামাজিক শিক্ষার অবক্ষয় আমাদের এই ধর্ষণের জন্য দায়ী |
এখন এই বিষয়টি নিয়ে যদি পরিপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করি তাহলে ব্যাখ্যাটি এভাবে দাঁড়ায় :

১. যে ছেলেটি ছোটবেলা থেকেই সামাজিক শিক্ষা পেয়ে এসেছে সেই সাথে ধর্মীয় শিক্ষা পরিপূর্ণভাবে পেয়ে এসেছে| তার পক্ষে কখনোই সম্ভব হবে না কোন মেয়েকে ধর্ষণ করা |

২. সেই সাথে তার আছে আল্লাহর ভয় এবং সেইসাথে তার থাকবে দেশের আইনি ব্যবস্থার উপর বিশ্বাস সে ভয় পাবে জেল কে , ভয় পাবে আইন শাসন ব্যবস্থাকে ভয় পাবে এবং লোকলজ্জা কে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়|


৩. সে সামান্য রাজনীতির জন্য তার এই মূল্যবান লেখাপড়া টাকে নষ্ট করবে না |
বিশেষ করে বর্তমান সময়ে ছাত্ররাজনীতি গুলো হয়ে থাকে দেখা যায় |
আমরা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক কষ্ট করে পরীক্ষা গুলো দিয়ে থাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পেতে আমাদের অনেক কষ্ট পেতে হয় | বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অনেক কষ্ট পোহাতে হয়|
এক জন ভালো স্টুডেন্ট চাই না এত কষ্টের বিনিময়ে তার প্রাপ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অধিকারকে কোন রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য |

(আমার রাজনৈতিক দানবদের কাছে একটু জানার ইচ্ছা যে তারা ছাত্রলীগ-ছাত্রদল ছাত্রসমাজ আরো নানান রকমের ছাত্র সংগঠনগুলো তৈরি করেছে এই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কতটা শিক্ষার সাথে সংযুক্ত যে বইগুলি লাগবে সেই বইগুলোর নাম কি তারা বলার ক্ষমতা রাখে)
মোটকথা সে কখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করবে না|

৪. একটি ভাল ছেলে কখনোই তার ফেসবুকের / নেট ব্রাউজিংয়ের সময় এমন কোন কিছু দেখবেনা যা থেকে তার সামাজিক প্রভাবে বা সামাজিক জীবনধারায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটতে পারে |

৫. তার কাছে তার নিজের মান-সম্মান সবচেয়ে মূল্যবান সেই সাথে তার পরিবার কারণ মান সম্মান বা মানুষের আস্থা অর্জন করতে অনেক সময় লাগে এবং অনেক সাধনার ফল| তা কয়েক মুহূর্তে নিমিষের মাধ্যমিক শেষ হয়ে যেতে পারে |

৬. এখন কথা বলে মেয়েকে নিয়ে সামাজিক মর্যাদা পূর্ণ একটি মেয়ে বা সামাজিক মর্যাদা জ্ঞান আছে| পরিবার থেকে ছোটবেলা থেকে যাকে খুব ভালো একটা সামাজিক আবহাওয়া বড় করা হয়েছে সেই মেয়ে কখনোই চাবেনা উৎশৃংখল পোশাক-আশাক পরতে, রাতে কারন ছাড়া বের হতে, বন্ধু বান্ধবীর সাথে সময় জ্ঞান মতে কথা বলবে |

প্রেম বা বিয়ের পৃবে কারো সাথে খারাপ সম্পর্ক করবে না |
হোটেলে খাবার খাওয়ার নামে অসামাজিক কার্যকলাপ করবে না |পরিপূর্ণ পদা করবে |

(উপরের সব বিষয়গুলো আমাদের সামাজিক শিক্ষার অংশ| )

[আমাদের একজন মেয়ের পর্দা করাতে কখনো আমাদের সমাজে পরিবর্তন হবে না | একদিনের পর্দাতেও আমাদের সমাজের পরিবর্তন হবে না| আমাদের সমাজে পরিবর্তন করতে হলে দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সেইসাথে দরকার আমাদের সামাজিক শিক্ষার ব্যাপক প্রসার| প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে প্রত্যেকটি পিতামাতার উচিত তাদের সন্তানকে পরিপূর্ণভাবে সামাজিক শিক্ষা প্রদান করা যাতে করে তার সন্তান কোনটা ভালো কোনটা খারাপ কোনটা আমাদের সমাজের না কোনটা অন্যায় |

এ বিষয়গুলো স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারে সেই সাথে আমাদের যোগ্য বয়সের যোগ্য ক্ষমতা কার সাথে কিভাবে আচরণ করতে হবে | কখন কিভাবে আচরণ করতে হবে কখন কার সাথে কিভাবে কথা বলতে পেয়ে বিষয়গুলো আমাদের সমাজে শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত |

ধর্ষণ কমানোর জন্য শুধু মেয়েদের পর্দা করবে যে মেয়েরা ধর্ষণের হবে না এমন কোন কথা নেই|

যদি সামাজিক শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটে তাহলে ধর্ষণ কমবে|
সেই সাথে আমাদের ব্যক্তিগত নৈতিকতা একান্তই প্রয়োজন ]

লেখক : মো: রাকিব হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published.